আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক। আজকের ভিডিওতে আমরা আলোচনা করব নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কিভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে এবং পে ফিক্সেশন নিয়ে কেন এত আলোচনা চলছে।

দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা নতুন বেতন কাঠামোর অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান ইনক্রিমেন্ট এবং পুরনো বেতন নতুন স্কেলের সাথে কিভাবে সমন্বয় করা হবে। তাই আজকের ভিডিওটি খুব মনোযোগ দিয়ে দেখুন। কারণ আমরা একদম সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করব।

বর্তমানে দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাজেটে 35 হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের আলোচনা সামনে আসার পর থেকেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। অনেকেই ভাবছেন জুলাই মাস থেকেই হয়তো নতুন বেতন কার্যকর হতে পারে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। তবে যেভাবেই বাস্তবায়ন হোক না কেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পে ফিক্সেশন। কারণ একজন কর্মচারীর প্রকৃত বেতন কত বাড়বে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করবে এই হিসাবের উপর।

অনেকেই পে ফিক্সেশন শব্দটি শুনলেও আসলে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝেন না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে বর্তমানে একজন কর্মচারী যে বেতন পাচ্ছেন তাকে নতুন স্কেলে কোন ধাপে নেওয়া হবে সেটাই হচ্ছে পে ফিক্সেশন। অর্থাৎ নতুন পে স্কেলে আপনার অবস্থান কোথায় হবে সেটি নির্ধারণের প্রক্রিয়া। একজন কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ, ইনক্রিমেন্ট এবং বর্তমান বেতনের উপর ভিত্তি করেই এই হিসাব করা হয়। তাই একই গ্রেডে চাকরি করলেও সবার বেতন এক হবে না। যার চাকরির অভিজ্ঞতা বেশি তার বেতনও বেশি হবে।

সাধারণত নতুন পে স্কেলে বেতন নির্ধারণের জন্য দুই ধরনের পদ্ধতির আলোচনা বেশি হয়। একটি হচ্ছে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি এবং অন্যটি হচ্ছে পার্থক্য যোগ পদ্ধতি। এই দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য অনেক বড়। কারণ একটিতে তুলনামূলক বেশি বেতন আসে, অন্যটিতে কিছুটা কম। তাই সরকারি চাকরিজীবীরা সবসময় জানতে চান সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পদ্ধতিতে যাবে। কারণ এর উপরই নির্ভর করবে নতুন স্কেলে প্রকৃত আর্থিক সুবিধা কতটুকু পাওয়া যাবে।

চলুন প্রথমে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি নিয়ে কথা বলি। ধরুন একজন কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন 13 হাজার 50 টাকা এবং তার গ্রেডের পুরনো স্টার্টিং বেতন ছিল 10 হাজার 200 টাকা। এখন এই দুই সংখ্যার অনুপাত বের করা হবে। অর্থাৎ বর্তমান বেতনকে স্টার্টিং বেতন দিয়ে ভাগ করা হবে। তখন যে অনুপাত পাওয়া যাবে সেটিকেই ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর বলা হয়। এরপর নতুন স্কেলের স্টার্টিং বেতনের সাথে সেই ফ্যাক্টর গুণ করা হবে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত কর্মচারীরা বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এবার আসি পার্থক্য যোগ পদ্ধতিতে। এই পদ্ধতিটি তুলনামূলক সহজ এবং অতীতের বেশিরভাগ পে স্কেলেই বাংলাদেশে এই নিয়ম ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে প্রথমে বের করা হয় একজন কর্মচারী তার স্টার্টিং বেতনের চেয়ে বর্তমানে কত বেশি পাচ্ছেন। যেমন কেউ যদি 10 হাজার 200 টাকার জায়গায় বর্তমানে 13 হাজার 50 টাকা পান তাহলে অতিরিক্ত অংশ দাঁড়ায় 2 হাজার 850 টাকা। এরপর নতুন স্কেলের স্টার্টিং বেতনের সাথে এই অতিরিক্ত অংশ যোগ করা হয়। তখন নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে সরকার সাধারণত কোন পদ্ধতিতে যায়। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে বাংলাদেশে বেশিরভাগ সময় পার্থক্য যোগ পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এই পদ্ধতিতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে কর্মচারীদের বেতন অনেক বেশি বেড়ে যায়। ফলে সরকারের উপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়। তাই অনেকেই মনে করছেন এবারও সম্ভবত পার্থক্য যোগ পদ্ধতিই অনুসরণ করা হতে পারে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে 11 থেকে 20 গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়ে। কারণ এই শ্রেণির কর্মচারীরাই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সবচেয়ে বেশি চাপে আছেন। বাজার পরিস্থিতির কারণে তাদের জন্য সংসার চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন পে স্কেলে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন বেতন 20 হাজার টাকা করার যে প্রস্তাব এসেছে সেটি সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।

শুধু মূল বেতন নয়, নতুন পে স্কেলে বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও পরিবর্তন হতে পারে। কারণ বর্তমানে অনেক কর্মচারী অভিযোগ করছেন যে শুধু মূল বেতন দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব নয়। চিকিৎসা ব্যয়, বাসা ভাড়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তাই নতুন স্কেলে ভাতাগুলোও বাস্তবতার সাথে সমন্বয় করা হতে পারে। এতে মোট আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন পে স্কেলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে পেনশন সুবিধা। কারণ বেতন বাড়লে পেনশনও বাড়ে। যারা অবসরের কাছাকাছি আছেন তারা নতুন স্কেল বাস্তবায়িত হলে বড় সুবিধা পেতে পারেন। শুধু পেনশন নয়, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর সুবিধাও বাড়বে। ফলে নতুন পে স্কেল শুধু বর্তমান চাকরিজীবীদের জন্য নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তার সাথেও জড়িত। এ কারণেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে এত আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে নতুন পে স্কেল কবে বাস্তবায়ন হবে। যদিও এখনো সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়নি, তবে বাজেটে বড় অঙ্কের বরাদ্দের আলোচনা বিষয়টিকে অনেকটাই বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। এছাড়া উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের আশা আগের চেয়ে অনেকটাই বেড়েছে। এখন সবাই অপেক্ষা করছেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য।

সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই, নতুন পে স্কেল শুধু বেতন বাড়ানোর বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই পে ফিক্সেশন কিভাবে হবে সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা আজকের ভিডিওতে চেষ্টা করেছি সহজভাবে পুরো বিষয়টি তুলে ধরতে। আশা করি আপনারা বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছেন। আপনাদের মতামত অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন। আর সরকারি চাকরিজীবীদের এমন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট সবার আগে পেতে আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করে পাশে থাকুন।

Post a Comment

0 Comments