আসসালামু আলাইকুম প্রিয় দর্শক। আজকের ভিডিওটি হতে যাচ্ছে নবম পে স্কেল নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা গুলোর একটি।

কারণ অনেকেই জানতে চাইছেন নতুন পে স্কেল যদি বাস্তবায়ন হয় তাহলে বর্তমান ইনক্রিমেন্টের কি হবে, পুরাতন বেতন কিভাবে নতুন স্কেলে যুক্ত হবে, আর পে ফিক্সেশন আসলে কোন নিয়মে করা হবে। আজকের ভিডিওতে আমরা একদম সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করব। তাই ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন। বিশেষ করে যারা সরকারি চাকরিজীবী আছেন তাদের জন্য আজকের আলোচনাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ পে স্কেল বাস্তবায়নের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্নই হচ্ছে নতুন বেতন নির্ধারণ কিভাবে হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন পে স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন জুলাই মাসেই ঘোষণা আসতে পারে, আবার কেউ বলছেন বাজেটের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে এর মধ্যেই সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটি হলো পে ফিক্সেশন। কারণ একজন কর্মচারী বর্তমানে যে বেতন পাচ্ছেন সেটি নতুন স্কেলে কিভাবে সমন্বয় করা হবে সেটার উপরই নির্ভর করবে তার প্রকৃত লাভ কতটুকু হবে। শুধু বেসিক বাড়লেই হবে না, সেই বেসিক কিভাবে নির্ধারিত হবে সেটাও অনেক বড় বিষয়। আর এই কারণেই আজকের পুরো ভিডিওটি আমরা শুধুমাত্র পে ফিক্সেশন নিয়েই সাজিয়েছি।

অনেকেই ভাবছেন নতুন পে স্কেল মানেই হয়তো সবার বেতন একসাথে দ্বিগুণ হয়ে যাবে। বাস্তবতা কিন্তু একটু ভিন্ন। কারণ সরকার যখন নতুন পে স্কেল দেয় তখন শুধুমাত্র নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করলেই হয় না, পুরনো কর্মচারীদের বর্তমান বেতনও নতুন কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে হয়। এই প্রক্রিয়াটাকেই বলা হয় পে ফিক্সেশন। সহজ ভাষায় বলতে গেলে বর্তমানে আপনি যে অবস্থানে আছেন সেখান থেকে নতুন স্কেলে আপনাকে কোথায় বসানো হবে সেটাই হচ্ছে পে ফিক্সেশন। আর এই বিষয়টি ঠিকভাবে বুঝতে না পারলে অনেকেই পরে বিভ্রান্তিতে পড়ে যান।

আজকের আলোচনায় আমরা দুইটি পদ্ধতি নিয়ে কথা বলব। একটি হচ্ছে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি এবং অন্যটি হচ্ছে পার্থক্য যোগ পদ্ধতি। সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এই দুই পদ্ধতি নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। কারণ এই দুই পদ্ধতিতে বেতন নির্ধারণ করলে ফলাফল একরকম আসে না। একটি পদ্ধতিতে তুলনামূলক বেশি বেতন পাওয়া যায়, আরেকটিতে কিছুটা কম আসে। তাই কোন পদ্ধতি বাস্তবায়ন হবে সেটিও খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা একদম বাস্তব উদাহরণ দিয়ে দেখাব কিভাবে এই হিসাবগুলো করা হয়।

প্রথমে আমরা ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করি। ধরুন একজন কর্মচারী বর্তমানে 14তম গ্রেডে চাকরি করছেন। তার পুরাতন স্কেলের স্টার্টিং বেসিক ছিল 10 হাজার 200 টাকা। ইনক্রিমেন্ট যোগ হয়ে বর্তমানে তার মূল বেতন দাঁড়িয়েছে 13 হাজার 50 টাকা। এখন ধরা যাক নতুন পে স্কেলে 14তম গ্রেডের নতুন স্টার্টিং বেসিক হলো 20 হাজার 400 টাকা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে তিনি নতুন স্কেলে কত বেতন পাবেন। এখানেই শুরু হয় ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতির হিসাব।

এই পদ্ধতিতে প্রথমে বের করা হয় বর্তমান বেতন এবং পুরনো স্টার্টিং বেসিকের অনুপাত। অর্থাৎ 13 হাজার 50 টাকাকে 10 হাজার 200 টাকা দিয়ে ভাগ করা হবে। তখন একটি অনুপাত পাওয়া যাবে। ধরা যাক সেটি দাঁড়াল 1.27। এই সংখ্যাটিই হচ্ছে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর। এরপর নতুন স্কেলের স্টার্টিং বেতনের সাথে এই ফ্যাক্টর গুণ করা হবে। অর্থাৎ 20 হাজার 400 এর সাথে 1.27 গুণ দিলে নতুন বেতন দাঁড়াবে প্রায় 25 থেকে 26 হাজার টাকার মধ্যে। এই পদ্ধতিতে সাধারণত কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেয়ে থাকেন।

এখন প্রশ্ন হলো এই বেতন কি সরাসরি ওই সংখ্যাতেই নির্ধারণ হবে? উত্তর হলো সবসময় না। কারণ সরকার যখন পে স্কেল ঘোষণা করে তখন একটি নির্দিষ্ট চার্ট দেয়া হয়। সেখানে ধাপে ধাপে বেতনের স্ল্যাব নির্ধারণ করা থাকে। যদি হিসাব করে যে সংখ্যা আসে সেটি সরাসরি চার্টে না থাকে তাহলে তার কাছাকাছি উপরের ধাপটি ধরা হয়। যেমন আপনার হিসাব যদি আসে 26 হাজার 100 টাকা কিন্তু চার্টে যদি 26 হাজার 400 এবং 25 হাজার 800 থাকে তাহলে নিয়ম অনুযায়ী উপরের ধাপ অর্থাৎ 26 হাজার 400 টাকা ধরা হবে। কারণ কোনো অবস্থাতেই বেতন কমানো হয় না।

এবার আসি পার্থক্য যোগ পদ্ধতিতে। বাংলাদেশে অতীতের অধিকাংশ পে স্কেলেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। এই পদ্ধতি তুলনামূলক সহজ। এখানে প্রথমে দেখা হয় বর্তমানে একজন কর্মচারী তার গ্রেডের স্টার্টিং বেসিকের চেয়ে কত বেশি পাচ্ছেন। যেমন 14তম গ্রেডের স্টার্টিং বেসিক ছিল 10 হাজার 200 টাকা। বর্তমানে ইনক্রিমেন্টসহ তিনি পাচ্ছেন 13 হাজার 50 টাকা। তাহলে অতিরিক্ত অংশ হচ্ছে 2 হাজার 850 টাকা। এই অতিরিক্ত অংশটিই নতুন স্কেলের স্টার্টিং বেতনের সাথে যোগ করা হবে।

অর্থাৎ নতুন স্কেলে যদি 14তম গ্রেডের স্টার্টিং বেতন হয় 20 হাজার 400 টাকা তাহলে তার সাথে 2 হাজার 850 টাকা যোগ করা হবে। তখন নতুন বেতন দাঁড়াবে 23 হাজার 250 টাকা। এখন লক্ষ্য করুন ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে যেখানে বেতন দাঁড়িয়েছিল 26 হাজার টাকার কাছাকাছি, সেখানে পার্থক্য যোগ পদ্ধতিতে বেতন হলো 23 হাজার টাকার কিছু বেশি। এখান থেকেই বোঝা যায় দুই পদ্ধতির মধ্যে পার্থক্য কতটা বড় হতে পারে। আর এই কারণেই সরকারি চাকরিজীবীরা সবসময় জানতে চান কোন পদ্ধতিতে পে ফিক্সেশন হবে।

এখন অনেকেই প্রশ্ন করেন সরকার সাধারণত কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে অতীতের বেশিরভাগ পে স্কেলে পার্থক্য যোগ পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ এই পদ্ধতিতে সরকারের আর্থিক ব্যয় তুলনামূলক কম হয়। অন্যদিকে ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতিতে বেতন অনেক বেশি বেড়ে যায়। ফলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে ভবিষ্যতেও যদি নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হয় তাহলে পার্থক্য যোগ পদ্ধতির সম্ভাবনাই বেশি।

তবে এখানে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ। সরকার যখন নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করবে তখন শুধুমাত্র বেসিক বেতনই নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাও নতুন করে নির্ধারণ করা হবে। ফলে শুধু মূল বেতন দেখে পুরো লাভ-ক্ষতির হিসাব করা ঠিক হবে না। অনেক সময় দেখা যায় মূল বেতন কিছুটা কম হলেও ভাতা বাড়ার কারণে মোট আয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে যায়। তাই পে ফিক্সেশন বোঝার পাশাপাশি পুরো কাঠামোটিও বোঝা দরকার।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে 11 থেকে 20 গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো। কারণ নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে তাদের বেতন দিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। ফলে নতুন পে স্কেলে এই গ্রেডগুলোর দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে সর্বনিম্ন বেতন 20 হাজার টাকা করার প্রস্তাবটি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।

অনেকেই আবার জানতে চাইছেন পুরনো ইনক্রিমেন্টগুলো কি থাকবে। সাধারণত নতুন পে স্কেলে পুরনো ইনক্রিমেন্ট পুরোপুরি বাতিল হয় না। বরং সেই ইনক্রিমেন্টের ভিত্তিতেই নতুন বেতন নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ আপনি যত বেশি বছর চাকরি করেছেন এবং যত বেশি ইনক্রিমেন্ট পেয়েছেন নতুন স্কেলেও তার প্রতিফলন থাকবে। এ কারণেই একই গ্রেডে থাকা দুইজন কর্মচারীর নতুন বেতন এক নাও হতে পারে। একজনের চাকরির মেয়াদ বেশি হলে তার বেতনও বেশি হবে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেডের প্রভাব। অতীতে যারা টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড পেয়েছেন তাদের ক্ষেত্রেও নতুন বেতন নির্ধারণে আলাদা হিসাব করা হতে পারে। কারণ এগুলোও একজন কর্মচারীর আর্থিক অবস্থানে প্রভাব ফেলে। যদিও এখনো চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ হয়নি, তবে আগের অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা করা যায় সরকার এসব বিষয় বিবেচনায় নেবে। তাই সরকারি চাকরিজীবীদের এখন থেকেই নিজেদের বর্তমান বেতন ও ইনক্রিমেন্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা উচিত।

অনেক দর্শক আবার জানতে চান পেনশন কিভাবে নির্ধারণ হবে। আসলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে পেনশনও নতুন বেতনের ভিত্তিতেই হিসাব করা হবে। ফলে যারা অবসরের কাছাকাছি আছেন তারা নতুন পে স্কেল থেকে বড় সুবিধা পেতে পারেন। কারণ মূল বেতন বাড়লে পেনশনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর সুবিধাও বৃদ্ধি পায়। তাই নতুন পে স্কেল শুধু চাকরিজীবীদের বর্তমান আয় নয়, ভবিষ্যতের নিরাপত্তার সাথেও জড়িত।

বর্তমানে যে আলোচনা চলছে তাতে ধারণা করা হচ্ছে সরকার ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে যেতে পারে। প্রথম ধাপে হয়তো মূল বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হতে পারে। কারণ একসাথে পুরো পে স্কেল বাস্তবায়ন করলে সরকারের উপর বিশাল আর্থিক চাপ পড়বে। তাই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি এখন বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হলো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য কোন পদ্ধতি সবচেয়ে ভালো হবে। স্বাভাবিকভাবেই সবাই চাইবেন ইনক্রিমেন্ট ফ্যাক্টর পদ্ধতি কার্যকর হোক। কারণ এতে বেতন তুলনামূলক বেশি আসে। তবে সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পার্থক্য যোগ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা সহজ। কারণ এতে অতিরিক্ত ব্যয় কম হয়। তাই শেষ পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত আসে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

অনেকেই আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেরাই হিসাব করা শুরু করেছেন। কেউ নতুন বেতন ধরে হিসাব করছেন, কেউ আবার সম্ভাব্য ভাতা যোগ করছেন। যদিও এখনো চূড়ান্ত কিছু ঘোষণা হয়নি, তারপরও এসব আলোচনা সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। কারণ দীর্ঘ 11 বছর পর নতুন পে স্কেলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সবাই কিছুটা আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।

সবশেষে একটি কথাই বলতে চাই, নতুন পে স্কেল শুধু একটি বেতন কাঠামো নয়। এটি লক্ষ লক্ষ সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী পরিবারের জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি জড়িত। তাই পে ফিক্সেশন কিভাবে হবে সেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা চেষ্টা করেছি আজকের ভিডিওতে একদম সহজ ভাষায় পুরো বিষয়টি তুলে ধরতে। আশা করি আপনারা বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন। আপনাদের কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন।

আর যারা এখনো আমাদের চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেননি তারা অবশ্যই সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। কারণ নবম পে স্কেল, পে ফিক্সেশন, বেতন বৃদ্ধি এবং সরকারি চাকরিজীবীদের সকল গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আমরা নিয়মিত নিয়ে আসছি। ভিডিওটি ভালো লাগলে একটি লাইক দিন এবং আপনার সহকর্মীদের সাথে শেয়ার করুন। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আল্লাহ হাফেজ।