আজকের ভিডিওটি শুরু করছি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বহুল আলোচিত নবম পে স্কেল নিয়ে একেবারে নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দিয়ে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, আলোচনা, আন্দোলন এবং নানা ধরনের গুঞ্জনের পর অবশেষে এমন একটি অবস্থায় পৌঁছেছে বিষয়টি যেখানে সরকার নীতিগতভাবে নবম পে স্কেল কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে ধারাবাহিক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে এবং সেই বৈঠকগুলোতেই মূলত পে স্কেলের কাঠামো, বাস্তবায়নের ধাপ এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। এখন সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে সেটি হচ্ছে—এই পে স্কেল বাস্তবায়ন হলে কার কত টাকা বাড়বে এবং সেটা কবে থেকে কার্যকর হবে। বিশেষ করে আগামী ১ জুলাই তারিখটি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। কারণ ওই দিন থেকেই নতুন অর্থবছর শুরু হচ্ছে এবং একইসাথে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

সরকারের ভেতরের বিভিন্ন সূত্র বলছে, পুরো নবম পে স্কেল একবারে বাস্তবায়ন করলে সরকারের উপর বিশাল আর্থিক চাপ সৃষ্টি হবে। হিসাব অনুযায়ী সম্পূর্ণ পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এত বড় ব্যয় একসাথে বহন করা সরকারের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষ করে ডলারের চাপ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন ব্যয় অব্যাহত রাখার মতো বিষয়গুলো মাথায় রেখেই সরকার ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, যদি একবারে পুরো বেতন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয় তাহলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থ প্রবাহিত হবে এবং সেটি মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। আর এ কারণেই আপাতত তিন ধাপে নবম পে স্কেল কার্যকর করার বিষয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

প্রথম ধাপে কী কী থাকছে সেটি নিয়েও ইতিমধ্যে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, প্রথম ধাপে মূল বেতনের বর্ধিত অংশের প্রায় ৫০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ যেই নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে, তার পুরো সুবিধা না দিয়ে প্রাথমিকভাবে অর্ধেক সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এখানেই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় রয়েছে। অনেকের ধারণা, সরকার যেহেতু বর্তমানে বিশেষ প্রণোদনা বা অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ সুবিধা দিচ্ছে, সেই সুবিধাগুলো নতুন পে স্কেল চালুর পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে মূল বেতন বাড়লেও প্রণোদনা বন্ধ হওয়ায় প্রকৃত হিসাব কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তবে সরকারি কর্মচারীদের বড় একটি অংশ এখনো আশাবাদী যে প্রথম ধাপেই মূল বেতনের বড় অংশ কার্যকর হবে এবং সেটি আগের তুলনায় যথেষ্ট স্বস্তি এনে দেবে।

গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নবম পে স্কেল নিয়ে অসংখ্য তথ্য সামনে এসেছে। কেউ বলেছে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়বে, আবার কেউ বলেছে নতুন করে গ্রেড সংখ্যা বাড়ানো হবে। কিন্তু সর্বশেষ যে তথ্যগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেখানে দেখা যাচ্ছে বাস্তব চিত্র কিছুটা ভিন্ন। এখন পর্যন্ত যেসব ইঙ্গিত মিলছে তাতে বোঝা যাচ্ছে বেতন বৃদ্ধি মোটামুটি ৯০ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। অর্থাৎ আগে যেভাবে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির গুঞ্জন ছড়িয়েছিল সেটি বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুব কম। একইসাথে গ্রেড সংখ্যা ২০টিই রাখা হতে পারে এবং নতুন করে গ্রেড ভাঙা বা পুনর্বিন্যাস করার সম্ভাবনাও আপাতত নেই। অর্থাৎ বিদ্যমান কাঠামো ঠিক রেখেই নতুন বেতন স্কেল তৈরি করা হচ্ছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, যদি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে কর্মচারীরা আসলে কীভাবে সুবিধা পাবেন। এ বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। কারণ কেউ কেউ মনে করছেন বেতন তিন কিস্তিতে বাড়বে, আবার কেউ মনে করছেন মূল বেতন একবারেই বাড়িয়ে দিয়ে অন্যান্য সুবিধা পরে যোগ করা হবে। বাস্তবে বিষয়টি নির্ভর করবে সরকারের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনের উপর। তবে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের একটি অংশ মনে করছেন, মূল বেতন কাঠামো একবারে কার্যকর করা হতে পারে, কিন্তু অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ধাপে ধাপে যোগ করা হবে। কারণ মূল বেতনকে ভাগ করে কার্যকর করতে গেলে হিসাবনিকাশ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে পেনশন, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধার হিসাব তখন নতুনভাবে সমন্বয় করতে হবে।

বেতন কমিশনের সুপারিশ নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না হলেও জানা গেছে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সেই প্রতিবেদনে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা, সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে। কমিশনের সদস্যরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতামতও নিয়েছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রা এখন কতটা কঠিন হয়ে উঠেছে সেটি রিপোর্টে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। কারণ বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে আগের বেতন কাঠামো দিয়ে সংসার চালানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারের নীতিনির্ধারকেরা এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন মূল্যস্ফীতির বিষয়টিকে। কারণ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের সাথে সাথে বাজারে যদি দ্রব্যমূল্য আরও বেড়ে যায় তাহলে সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারী—দুই পক্ষই সমস্যায় পড়বে। তাই সরকার চাচ্ছে এমনভাবে বেতন বাড়াতে যাতে কর্মচারীরা স্বস্তি পান কিন্তু একইসাথে অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা না লাগে। এ কারণেই বাজেটে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ রাখার পাশাপাশি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আগামী বাজেটে এই খাতে কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ঘোষণা আসেনি, তারপরও প্রশাসনের অভ্যন্তরে বিষয়টি নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হচ্ছে—এই নতুন স্কেলে কার কত টাকা বাড়তে পারে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সারণি প্রকাশ হয়নি, তারপরও অনেকেই নিজেদের সম্ভাব্য বেতন হিসাব করা শুরু করেছেন। বিশেষ করে যারা গ্রেড ১০ থেকে গ্রেড ২০ এর মধ্যে রয়েছেন তারা মনে করছেন এবার তাদের বেতনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। অন্যদিকে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও নতুন স্কেলের দিকে নজর রাখছেন। কারণ মূল বেতন বাড়ার সাথে সাথে পেনশন সুবিধা, ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা এবং অন্যান্য ভাতাও বাড়বে। তাই শুধু বর্তমান বেতন নয়, ভবিষ্যতের আর্থিক অবস্থার দিক থেকেও এই পে স্কেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই পে স্কেল নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ অতীতে দেখা গেছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে যায়। ব্যবসায়ীরা অনেক সময় আগেভাগেই দাম বাড়াতে শুরু করেন। তাই সরকার এখন চেষ্টা করছে যেন বাজারে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে। এ কারণে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে অনেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশ আবার মনে করছেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর যদি আবার ধাপে ধাপে সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারবেন না। কারণ গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে তাতে দ্রুত বেতন সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছে।

Post a Comment

0 Comments