২০২৬ সালের সম্ভাব্য ৯ম বেতন স্কেল নিয়ে এখন দেশের লাখ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

বিশেষ করে নতুন প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো প্রকাশ হওয়ার পর থেকে সবাই হিসাব করতে শুরু করেছেন কার বেতন কত বাড়তে পারে। বর্তমান ৮ম পে স্কেলের তুলনায় এবার বেতন বৃদ্ধির হার অনেক বেশি ধরা হয়েছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম থেকে দশম গ্রেড পর্যন্ত প্রায় ৬০ শতাংশ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য তালিকাটি ঘিরে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন আশা।

প্রথম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বর্তমান মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থাকলেও নতুন স্কেলে সেটি বেড়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয় গ্রেডে বর্তমানে ৬৬ হাজার টাকা বেতন থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার ৬০০ টাকা করা হতে পারে। একইভাবে তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে সম্ভাব্য নতুন বেতন দাঁড়াতে পারে ৯০ হাজার ৪০০ টাকা। চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ৮০ হাজার এবং পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৬৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার আলোচনা চলছে। উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য এটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মধ্যম পর্যায়ের চাকরিজীবীদের মধ্যেও এই সম্ভাব্য স্কেল নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ষষ্ঠ গ্রেডে বর্তমানে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা বেতন থাকলেও সেটি ৫৬ হাজার ৮০০ টাকায় উন্নীত হতে পারে। সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার টাকা থেকে সম্ভাব্য বেতন ৪৬ হাজার ৪০০ টাকা এবং অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার টাকা থেকে ৩৬ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নবম গ্রেডের কর্মচারীরা বর্তমানে ২২ হাজার টাকা পেলেও নতুন স্কেলে সেটি ৩৫ হাজার ২০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে। একইভাবে দশম গ্রেডে ১৬ হাজার টাকা থেকে সম্ভাব্য নতুন বেতন ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৬০০ টাকা। ফলে মধ্যম আয়ের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতন বৃদ্ধি। কারণ ১১তম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ। একাদশ গ্রেডে বর্তমানে ১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতন থাকলেও সেটি বাড়িয়ে ২১ হাজার ২৫০ টাকা করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বাদশ গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৯ হাজার ২১০ টাকা এবং ত্রয়োদশ গ্রেডে ১১ হাজার টাকা থেকে ১৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। চতুর্দশ গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে সম্ভাব্য নতুন বেতন হতে পারে ১৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এসব তথ্য প্রকাশের পর নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও পঞ্চদশ থেকে উনবিংশ গ্রেড পর্যন্ত কর্মচারীদের সম্ভাব্য বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে। পঞ্চদশ গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১৬ হাজার ৪৯০ টাকা, ষোড়শ গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ১৫ হাজার ৮১০ টাকা এবং সপ্তদশ গ্রেডে ৯ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেতন হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। অষ্টাদশ গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে সম্ভাব্য বেতন ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৯৬০ টাকা। উনবিংশ গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। এমনকি সর্বনিম্ন গ্রেডেও বর্তমানের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে এই সম্ভাব্য তালিকা নিয়ে এখনো সরকারিভাবে কোনো গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাজার পরিস্থিতি এবং কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়েই এবার বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে আগামী বাজেট ঘোষণার সময় অথবা তার পরবর্তী সময়ে ৯ম বেতন স্কেল নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এখন সরকারি চাকরিজীবীদের একটাই অপেক্ষা, কবে চূড়ান্তভাবে এই নতুন স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা আসে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন অফিস আদালত পর্যন্ত সর্বত্র এই সম্ভাব্য স্কেল নিয়ে আলোচনা চলছে। কেউ বলছেন এটি বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যাবে, আবার কেউ বলছেন বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে আরও বেশি বেতন বাড়ানো দরকার। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, দীর্ঘদিন পর নতুন পে স্কেলের সম্ভাবনা সরকারি চাকরিজীবীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এখন সবাই তাকিয়ে আছে সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। যদি এই সম্ভাব্য তালিকা বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে বাংলাদেশের সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এটি হতে পারে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় সুখবর।